পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ডে কেন্দ্রের অভ্যন্তরীণ সার্ভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে গত দুই দিন ধরে কেন্দ্রের ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আগুনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রও পুড়ে গেছে, তবে কর্মকর্তারা বলছেন, সব নথির ব্যাকআপ সংরক্ষিত থাকায় উদ্বেগের কোনো কারণ নেই।
সোমবার ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে প্রকল্প এলাকার ভেতরে ২ নম্বর গেট সংলগ্ন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (বিএইসি) পুরাতন কার্যালয় ভবনে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানান রূপপুর প্ল্যান্ট ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার মো. আবুল হাশেম। তিনি জানান, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ারকর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তা নিয়ন্ত্রণে আনেন, তবে ততক্ষণে কেন্দ্রের অভ্যন্তরীণ সার্ভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভবনের একটি এয়ার কন্ডিশনার ইউনিটে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত। ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন সূত্র পর্যালোচনা করছে।
রূপপুর প্রকল্পের সাইট অফিসের দায়িত্বে থাকা মো. রুহুল কুদ্দুস জানান, কিছু নথি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তা নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণ নেই, কারণ সব ফাইলের ব্যাকআপ কপি সংরক্ষিত আছে। তবে সার্ভার স্টেশনের ব্যাপক ক্ষতির কারণে গত দুই দিন ধরে কেন্দ্রের অভ্যন্তরীণ ইন্টারনেট সেবা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। ইন্টারনেট সেবা পুনরায় চালুর কাজ চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) অতীতে একাধিকবার রূপপুর কেন্দ্র পরিদর্শনকালে সেখানে পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মানদণ্ড অনুযায়ী রূপপুরের ফায়ার স্টেশনে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও ২০০-র বেশি জনবল থাকার কথা। কিন্তু বর্তমানে মাত্র ৪৯ জন জনবল নিয়ে একটি প্রচলিত ধাঁচের ফায়ার স্টেশন পরিচালিত হচ্ছে কেন্দ্রটিতে।
এ প্রসঙ্গে স্টেশন অফিসার আবুল হাশেম বলেন, স্টেশনে পর্যাপ্ত সরঞ্জাম রয়েছে এবং প্রশিক্ষিত জনবল নিয়োগ পেলেই তা স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে কাজ করতে সক্ষম হবে।