ঘটনার পরপরই পিডিবির কারিগরি দল ক্ষতিগ্রস্ত ব্রেকার মেরামত ও নতুন ব্রেকার সংগ্রহের কাজ শুরু করে। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে তারা দত্তেরহাট সাবস্টেশন থেকে প্রায় ৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করে। তবে এই ৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিয়ে শহরের অর্ধেক চাহিদাও মিটছে না।
জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নোয়াখালীর জেলা শহর মাইজদীতে পিডিবির আওতাধীন এলাকায় সন্ধ্যার পর বিদ্যুতের চাহিদা ৩৫ থেকে ৩৬ মেগাওয়াট হয়। সেখানে গতকাল রাতে সরবরাহ করা হয়েছে মাত্র ৯ মেগাওয়াট। এ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্রেকার পুনঃস্থাপিত না হওয়া পর্যন্ত এক ঘণ্টা পরপর পর্যায়ক্রমে (রোটেশন ভিত্তিতে) বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ শহরের এক অংশে এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলে অন্য অংশে তা বন্ধ থাকবে। পরের ঘণ্টায় সরবরাহের এলাকা পরিবর্তন করা হবে।
শহরের লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে তাঁর এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। পরে দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে বিদ্যুৎ দেওয়া হয়। এক ঘণ্টা না যেতেই আবার বিদ্যুৎ চলে যায়। এভাবে সারা রাত ও আজ সকাল পর্যন্ত কয়েকবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করেছে। বিদ্যুতের সংকটের কারণে রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারেননি তিনি।
পিডিবি নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাবিবুল বাহার বলেন, চৌমুহনী গ্রিড উপকেন্দ্রে ব্রেকার বিস্ফোরণের কারণে বিদ্যুতের স্বাভাবিক সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। বিকল্প ব্যবস্থায় জেলা শহরে কিছু বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত ব্রেকারসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি দ্রুত মেরামত করে সরবরাহ স্বাভাবিক করতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ চলছে। তবে স্থায়ী মেরামত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সাময়িক এই বিদ্যুৎ–বিভ্রাট থাকবে। অনাকাঙ্ক্ষিত এই পরিস্থিতির জন্য বিদ্যুৎ বিভাগ গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে।