রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে গত কয়েক বছর ধরে ‘ভর্তি বাণিজ্য’ চলছে বলে অভিযোগ করেছে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ অভিভাবক ফোরাম। এ ধরনের ভর্তি বন্ধে চলতি শিক্ষাবর্ষের সেপ্টেম্বর মাসে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি থেকে বিরত থাকার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানান ২০০৭ সালে নিবন্ধিত অভিভাবক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও আইডিয়াল স্কুলের আজীবন দাতা সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিয়াউল কবির দুলু এবং আহ্বায়ক আ স ম আলমগীর।

বিবৃতিতে তারা অভিযোগ করেন, রাজধানীর স্বনামধন্য এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন কৌশলে ভর্তি বাণিজ্য অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে সহোদর কোটার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন তারা।

অভিভাবক ফোরামের নেতারা বলেন, গত তিন-চার বছর ধরে একটি ভর্তি সিন্ডিকেট হাইকোর্টে রিট করে সরকারি নীতিমালায় নির্ধারিত ৫ শতাংশের বাইরে সহোদর কোটায় অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করানোর আদেশ নিয়ে আসছে। এর ফলে স্কুলের শিক্ষার্থীদের সব সহোদরকে ভর্তি করানো হলে বাইরের শিক্ষার্থীদের জন্য আর আসন খালি থাকে না।

তাদের দাবি, শিক্ষাবর্ষের শেষ দিকে, বিশেষ করে বার্ষিক পরীক্ষার আগে আদালতের আদেশের মাধ্যমে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হলে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। একই সঙ্গে সদ্য ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের পক্ষে নির্ধারিত সময়ে স্কুলের সিলেবাস সম্পন্ন করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

এতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি সামগ্রিকভাবে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

এ অবস্থায় মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার মান ও সুনাম রক্ষায় সরকারি নীতিমালার বাইরে সব ধরনের ‘ভর্তি বাণিজ্য’ বন্ধের দাবি জানিয়েছে অভিভাবক ফোরাম।

চলতি শিক্ষাবর্ষের শেষে বার্ষিক পরীক্ষার আগে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি না করার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা সচিবের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।